সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ১২:৫৪

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বন্ধ সিনেমাহল চালু করতে ঋণ সহায়তা দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, বন্ধ প্রেক্ষাগৃহ (সিনেমা হল) মালিকরা পুনরায় চালু করতে চাইলে আর্থিকসহ নীতি সহায়তা দেয়ার কথা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিনেমা হল মালিকদের সহায়তা করতে বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, তার আগে প্রেক্ষাগৃহের মালিকদের আবেদন করতে হবে। বন্ধ প্রেক্ষাগৃহ বাঁচাতে সরকার আর্থিক ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করে দেবে।

শেরেবাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি মিলনায়তনে গতকাল অনুষ্ঠিত একনেক সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্বের সময় একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নির্দেশনা দেন। পরে সভাশেষে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সভায় ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। আর এসব বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৭০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৪৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে ১ হাজার ২ কোটি ৪২ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকা যোগান দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক স্মার্ট ও শিক্ষিত তরুণেরা অনলাইনে ভালো আয় করে। কিন্তু সামাজিক স্বীকৃতির অভাবে তরুণরা নানা সমস্যায় পড়ছে। কারোর কাছে এসব তরুণরা পেশার পরিচয় দিতে পারছে না। তাই অনলাইনে আয়কারী ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আইসিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ভাষা শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের চীন-জাপানি-ফরাসিসহ বিদেশি ভাষা শিখতে বলেছেন। ৭৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ১১টি উপজেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের উপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রধান করেন বলে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান।

এমএ মান্নান বলেন, চলতি অর্থবছর শতভাগ বিদ্যুৎ দেয়ার কাজ শেষ হয়ে যাবে। এখন হচ্ছে আপগ্রেডেশন ক্যাপাসিটি সংস্কার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাড়ি, বিদেশ, পরামর্শক দূরবীন দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আমরা দোটানায় আছি। একদিকে প্রকল্পের গতি বাড়ানো, অন্যদিকে ব্যয় সাশ্রয়। এ দুটির মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো, ২০৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রæণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন প্রকল্প, ৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মহিষ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্প, এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় উপকেন্দ্র নির্মাণ ও পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ক্যাপাসিটর ব্যাংক স্থাপন এবং স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থার প্রবর্তন প্রকল্প এবং ৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রচার কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প।

© Alright Reserved 2020, The Morning Telegraph