শনিবার ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ২:৪৭

টোকিওতে করোনার ভয়াবহ উর্ধ্বগতি : আজ থেকে আরো ৪ টি শহরে জরুরী অবস্থা জারি

আর এ সুজন : গত বছরের জানুয়ারির ১৬ তারিখে জাপানে প্রথমবারের মতো করোনা রোগী সনাক্তের পর গত কিছুদিন ধরেই হুহু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গতপরশু থেকে গতকাল এ সংখ্যা কিছুটা কম হলেও তা জাপান সরকার এবং সাধারণ মানুষের কপালে ভাঁজ ফেলতে বাকি রাখেনি কোনভাবেই। গতকাল দেশটির সরকারী রিপোর্ট অনুযায়ী একদিনে টোকিও শহরের এই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩১০৫ জন। তার আগের দিন শনিবার তা প্রথমবারের মতো চার হাজারের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শনিবার টোকিওতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪০৫৮ জন। যা দেশটির যেকোন শহরে একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আক্রান্তের এ উর্ধ্বগতি ঠেকাতে আজ সোমবার থেকে টোকিও এবং ওকিনাওয়া ছাড়াও আরো ৪ টি শহরে নতুন করে কার্যকর হচ্ছে জরুরী অবস্থা ।

এর আগে শনিবার টোকিওতে প্রথমবারের মতো আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজারের কোটা পেরোলে দেশটির জনগনের উদ্দেশ্যে জরুরিভাবে ভাষন দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী  ইউশিহিদে সুগা। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন করোনাভাইরাস প্রতিষেধক উপকমিটির প্রধান সিগেরু ওমি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার ভাষনে টোকিও এবং ওকিনাওয়া’র চলমান লক-ডাউন ছাড়াও আরো ৪ টি শহরে নতুন করে লকডাউন জারি করেন। শহরগুলো হলো-সাইতামা, চিবা, কানাগাওয়া এবং ওসাকা। এছাড়াও ৫ টি শহরকে অত্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষনে রাখা হবে বলে ঘোষনা দেন তিনি। নিবিড় পর্যবেক্ষনে রাখা শহরগুলো হলো-হোক্কাইদো, ইসিকাওয়া, কিওটো, ফুকুওকা এবং হিওগো।
এদিকে করোনার এই উর্ধ্বগতি অলিম্পিক কমিটিকেও ক্ষনে ক্ষনে শঙ্কার মধ্যে ফেলছে। জাপানে চলমান অলিম্পিকের আসর দর্শকশুন্য রাখা হলেও ঠেকানো যাচ্ছে না মহামারি এই ভাইরাসকে। এরই মধ্যে খেলোয়াড়সহ অলিম্পিক আয়োজকদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। এ নিয়েও জাপানের জনগনের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ এই মহামারির মধ্যে অলিম্পিকের মতো বড় আসর চলমান রাখার বিপক্ষে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। অনেকেই এটা সরকারের ভুল পথে চলার একটি উদাহরন বলেও মন্তব্য করছেন। যদিও করোনাকে ঠেকানোর জন্য সরকার এবং অলিম্পিক কমিটি যৌথভাবে সবরকম প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবী করা হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে।
সরকারের নেয়া ব্যবস্থাগুলোর সমালোচনা করে এখানকার বিরোধীদলগুলো টিকার পাশাপাশি ভিন্ন পদক্ষেপের উপর জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকারকে।
এ নিয়ে সুগা সরকারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সরকার কঠোর সিদ্ধান্তে যেতে চাইলেও তা সহজতর নয়। কারন এতে সরকার এবং জনগনের মধ্যে বিশ্বাসের জায়গায় ফাটল তৈরী করতে পারে।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সুগাকে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সরকারকে আরো বেশি আইনি ক্ষমতা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তা নাকচ করে দেন। এ সময় সুগা বলেন, কঠোর লকডাউন কখনোই এর সমাধান হতে পারে না। তিনি এ সময় জাপানের টিকা ব্যবস্থার উপর জোর দেন।

একই দিনে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে ইওয়াতে অন্য এক সংবাদ সম্মেলনে সেখানকার গভর্নর তাকুয়া তাসো বলেন, টোকিও’র এখন যা দরকার তা হল একটি কঠোর লকডাউনের মতো সাহসিক ব্যবস্থা। নিরাপদে অলিম্পিক আয়োজনের জন্য হলেও সরকারকে আরো কঠোর অবস্থানে আসার অনুরোধ করেন তিনি । তাসো বলেন, এরকম পদক্ষেপ নিতে সরকার দেরি করলে তা শুধু রাজনীতি নয় বরং সারা দেশের মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলবে।
উল্লেখ্য এ পর্যন্ত জাপানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩৭৪২৫ জন।যার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ৬৯ হাজার ৩ শত ৬২ জনকে। করোনায় গত ২ বছরে জাপানে মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ২০৯ জন। অন্যদিকে এ পর্যন্ত টিকার আওতায় আনা হয়েছে ৮৪০০৯৪৩৮ জনকে।
© Alright Reserved 2020, The Morning Telegraph