সোমবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ সকাল ১১:১৭

নাটোরে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রণোদনা কর্মরতদের বাদ দিয়ে ভুঁয়া তালিকায় উত্তোলণ করে আত্মসাতের অভিযোগ

 

নাটোর সংবাদদাতা
নাটোরে নন এমপিও শিক্ষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রণোদনার টাকা ২০বছর আগে থেকে কর্মরতদের বাদ দিয়ে ভুঁয়া তালিকা দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। বঞ্চিতদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ নাটোর জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজের কাছে লিখিত ভাবে এমন অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ ও কর্মরতদের নিকট থেকে জানা যায়, জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুরে ২০০০ সালে চাঁদপুর বিএম কলেজ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৩সালে উচ্চ মাধ্যমিক বিএম শাখা ও পরের বছর এসএসসি ভকেশনাল শাখা এমপিও ভুক্ত হলেও আজ পর্যন্ত সাধারন শাখা এমপিও ভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোঃ মকবুল হোসেনের এসএসসি থেকে এমএ পর্যন্ত চারটি ডিগ্রীর ফলাফলই তৃতীয় শ্রেণী হওয়ায় তার নিযোগ বৈধ নয় এমন অভিযোগে ২০১৬ সালে কলেজের সভাপতি বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কলেজের বেতন বিলে স্বাক্ষর করা বন্ধ করেন। পরে কলেজে ঢুকতে না দেয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনে অধ্যক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আতিয়ুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত শেষে মকবুল হোসেনকে অপসারন করে কলেজের প্রতিষ্ঠাকালে নিয়োগপ্রাপ্ত মনোবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক মোঃ লুৎফর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেন। ২০১৮সালে উচ্চ আদালতে একটি রিটের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী আদেশে অধ্যক্ষ মোঃ মকবুল হোসেন পুনরায় ছয় মাসের জন্য অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। পরে তিন বার আদালত থেকে দায়িত্বের মেয়াদ বাড়িয়ে নেন যা আগামী মাসে শেষ হবে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালে সংকটের জন্য নন এমপিও শিক্ষকদের পাঁচ হাজার ও কর্মচারীদের আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা প্রদান করলে এই কলেজের পক্ষ থেকে ভুঁয়া তালিকা ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয়। মনোবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক মোঃ লুৎফর রহমান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন তারা দুজনসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক কর্মচারীকে এই প্রণোদনার তালিকায় অন্তভুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের জন্ম থেকে তারা কর্মরত থাকলেও প্রণোদনার তালিকায় এমন প্রায় ১০জনের নাম রয়েছে যারা কখনো এই প্রতিষ্ঠানে একদিনের জন্যও আসেননি কোন শিক্ষক-কর্মচারী তাদের চিনেনও না। মোঃ ময়মুর সুলতান নামে একজন নামে একজন প্রভাষক দীর্ঘদিন থেকে দক্ষিণ কোরিয়া অবস্থান করলেও স্বাক্ষর করে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রণোদনার টাকা উত্তোলণ করা দেখানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এমএলএসএস আছের উদ্দিনসহ কয়েকজন এই প্রতিবেদকের কাছে প্রণোদনা উত্তোলনের তালিকায় নাম থাকলেও টাকা না পাওয়া বা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবী করেছেন। বিষয়গুলোর প্রতিকার চেয়ে নাটোর জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজের সাথে সাক্ষাত করে ভুক্তভুগিরা লিখিত ভাবে অভিযোগ করেছেন। নাটোর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
অধ্যক্ষ মোঃ মকবুল হোসেন আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কলেজে নিয়মিত না আসায় প্রভাষক লুৎফর রহমান, আবুল কালাম আজাদও আব্দুস সবুরের নাম তালিকায় দেয়া হয়নি। আর এমএলএসএস আছের উদ্দিনের বিষয়ে বলেন ও আমার প্রতিবেশী ডেকে টাকা দিয়ে দিবো। প্রভাষক মোঃ ময়মুর সুলতান দক্ষিন কোরিয়া অবস্থান করার পরও কিভাবে তার নাম তালিকাভুক্ত ও টাকা উত্তোলন করা হলো এ বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, তার বড় ভাই তার চেক গ্রহন করেছে এখানে আমার কিছু করার নেই।
চাঁদপুর বিএম কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেছেন, তালিকার সকলের প্রণোদনার টাকাই উত্তোলন করা হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। টাকা নিতে না আসায় একাধিক জনের টাকা ফেরতও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে আসলে সহজেই বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।

© Alright Reserved 2020, The Morning Telegraph